Home উদ্যোক্তা ১৪ হাজার টাকায় ব্যবসা শুরু করে এখন ১৫ লাখ টাকা বিক্রি করি!

১৪ হাজার টাকায় ব্যবসা শুরু করে এখন ১৫ লাখ টাকা বিক্রি করি!

3 second read
0
0
101

দীপা বনিকের জন্ম ও বেড়ে ওঠা ফেনীতে। ফেনী সরকারি কলেজ থেকে পড়াশোনা শেষ করে একটি ইংরেজি মাধ্যম স্কুলে চাকরি করতেন। ২০১৩ সালে বিয়ের পর কুমিল্লা আসেন। স্বামী প্রবাসী হওয়ায় বাচ্চা-সংসার সামলে চাকরি করার সুযোগ হয়নি। দুই সন্তান দেখাশোনার পাশাপাশি ২০১৯ সাল থেকে ফেসবুক ভিত্তিক অনলাইন পেজ ‘দীপান্বিতা’র মাধ্যমে কুমিল্লার খাদি ও বাটিকের শাড়ি, থ্রি পিস, পাঞ্জাবি, বেডকভার বিক্রি করেন।

দীপার সব সময়ই ইচ্ছা ছিল নিজের মতো করে কিছু করার। কিন্তু বাচ্চা, সংসার সামলে সম্ভব হচ্ছিল না। পারিবারিক বিভিন্ন কারণে চরম হতাশা ঘিরে ধরে তাকে। হঠাৎ করে দীপার এক বান্ধবী তার জন্য কিছু পণ্য কিনতে বলেন। পণ্য কিনে বাসায় এসে ‘দীপান্বিতা’ নামে একটি পেজ খোলেন। এরপর ভাবেন, ‘আমিও তো ঘরে বসে কাজটি করতে পারি’। যেহেতু বাচ্চাদের রেখে বাইরে যাওয়া সম্ভব নয়। তাই অন্য উদ্যোগ না নিয়ে ই-কমার্স উদ্যোগকেই বেছে নেন।

দীপা বলেন, ‘আমি চাইলে বাবা, মা কিংবা স্বামীর থেকে সাহায্য নিতে পারতাম। কিন্তু যদি লস হয়ে যায়, তাই নিজের জমানো ১৪ হাজার টাকা দিয়েই শুরু করলাম। প্রথমে বন্ধুদের সহযোগিতায় শুরু করি। কিন্তু এর কিছুদিন পর ফেসবুক ভিত্তিক ই-কমার্স গ্রুপে যুক্ত হই। সেখানে দেখলাম আর ১০টা গ্রুপ থেকে গ্রুপটি আলাদা।’

তিনি বলেন, ‘এখানে সেল পোস্ট, লাইভ, ভিডিও শেয়ার করা যায় না। এখানে নিজের পণ্য এবং ই-কমার্স ব্যবসা সম্পর্কে সবাই লেখালেখি করেন। ব্যাপারটি খুব ভালো লেগে যায় আমার। এরপর রাজীব স্যারের দিক-নির্দেশনায় আমার কাজগুলো আরও সহজ হয়ে যায়।’

তিনি আরও বলেন, ‘নিজের পেজ আর উই গ্রুপ মিলিয়ে মোট ১৫ লাখ টাকার পণ্য বিক্রি করি। আমরা যারা দেশি পণ্য নিয়ে কাজ করি; তাদের জন্য উই একটি স্বপ্নের জায়গা। দেশের তৃণমূল পর্যায় থেকে এ গ্রুপের মাধ্যমে উদ্যোক্তারা উঠে আসছে। এর মাধ্যমে দেশ এবং দেশের বাইরে থেকে অর্ডার পাচ্ছি।’

উদ্যোক্তার জীবন মানেই চ্যালেঞ্জে ভরপুর। আর নারী হলে তো কথাই নেই। নারী হিসেবে প্রচুর বাধার সম্মুখীন হতে হয়েছে দীপার। মেয়ে হয়ে ব্যবসা করবেন, সমাজ তা মেনে নিতে পারেনি। যেহেতু শুরু থেকে প্রোডাক্ট প্রোসেসিং, প্যাকেজিং, কাস্টমার, ডেলিভারি সবকিছু একা ম্যানেজ করতে হয়; সেক্ষেত্রে দীপার মতো নারী উদ্যোক্তাদের ভীষণ চ্যালেঞ্জ নিতে হয়।

দীপার এ স্বপ্নের যাত্রা শুরু হয়েছিল ২০১৯ সালে। এ উদ্যোগ নিয়ে তার কিছু পরিকল্পনা আছে। এরমধ্যে নিত্য নতুন, সুন্দর সুন্দর সৃষ্টি দিয়ে খাদিকে বিশ্ব দরবারে তুলে ধরতে চান। ভবিষ্যৎ প্রজন্ম যেন খাদি কাপড়ের পোশাককে প্রাধান্য দেয়; সে জন্য নতুন কিছু করার চেষ্টা করছেন।

অনেকেই খাদি কাপড় নিয়ে কাজ শুরু করেছেন। খাদির সুদিন ধরে রাখতে কাজ করছেন তারা। তবে সবাই একই জিনিস নিয়ে পড়ে না থেকে খাদি কাপড়ে নতুনত্ব আনতে হবে। তরুণ উদ্যোক্তাদের মাথা খাটিয়ে ক্রিয়েটিভ আইডিয়া দিয়ে নতুন নতুন বাজার সৃষ্টি করতে হবে। এতে দেশীয় ঐতিহ্যকে বাঁচিয়ে রাখার পাশাপাশি নিজের পরিচয় গড়ে তোলা সম্ভব।

Load More Related Articles
Load More By admin
Load More In উদ্যোক্তা

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Check Also

টি স্পোর্টস লাইভ .! বাংলাদেশ বনাম ওয়েস্ট ইন্ডিজ ! লাইভ খেলা দেখুন

আসসালামু আলাইকুম সবাই কেমন আছেন আশা করি সবাই ভালো আছেন। আমরা অনেকেই আছি যারা মোবাইলে সরাসর…