Home উদ্যোক্তা ২টি গাভী থেকে শুরু করা খামারে আয় কোটি টাকা!

২টি গাভী থেকে শুরু করা খামারে আয় কোটি টাকা!

0 second read
0
0
218

১৮ বছর বয়স থেকে আনোয়ারার আইয়ুব আলী (৩৩) স্বপ্ন দেখতেন নিজের পায়ে দাঁড়ানোর। নিজের পরিশ্রম সম্বল করে সে পথে বহুদূর এগিয়েছেন তিনি। গবাদিপশুর খামার করে হয়েছেন স্বাবলম্বী। এলাকায় সফল খামারি হিসেবে পরিচিতিও পেয়েছেন উপজেলার বটতলী ইউনিয়নের গুন্ধীপ এলাকার এই বাসিন্দা।

১৯৯৭ সালের কথা। মাদ্রাসা থেকে দাখিল পরীক্ষা শেষ করে আইয়ুব আলীর ইচ্ছে জাগে ব্যতিক্রমী কিছু করে স্বাবলম্বী হওয়ার। সে চিন্তা থেকে ওই বছরই দুই শ মুরগির ছানা নিয়ে একটি পোলট্রি খামার গড়ে তোলেন তিনি। পরে ২০০২ সালে গবাদিপশুর খামার করার কথা ভাবেন। শুরু হয় খামারের কার্যক্রম। এরপর আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। গত ১৫ বছরের ব্যবধানে আইয়ুব আলী হয়ে উঠলেন একজন সফল খামারি। প্রায় ১০ গন্ডা (২০ শতক) জায়গায় গড়ে তুলছেন তালুকদার ডেইরি ফার্ম, যা উপজেলার বৃহৎ খামার।

আইয়ুবের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ২০০২ সালে দুটি গাভি নিয়ে শুরু হয় তাঁর খামারের কার্যক্রম। ধীরে ধীরে একটি–দুটি করে বর্তমানে ৩০টির মতো বিভিন্ন আকারের গাভি, ষাঁড় ও বাছুর হয়েছে খামারে। এসব গাভি থেকে গড়ে ৭০ থেকে ২০০ লিটার দুধ পাওয়া যায়। ৪০ টাকা দরে বিক্রি হয় দুধ। গরুর খাবার ও শ্রমিকদের মজুরি বাবদ দৈনিক তিন হাজার টাকার মতো খরচ হয়।

১৫ বছরে আয় কোটি টাকা: আইয়ুব আলীর সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, খামার থেকে দুধ ও ষাঁড় বিক্রি করে খরচ বাদ দিয়ে মাসে অন্তত এক লাখ টাকা আয় হয় তাঁর। সে হিসাবে গত ১৫ বছরে এই খামার থেকে প্রায় দুই কোটি টাকার মতো আয় হয়েছে তাঁর। এই আয় থেকে গাভি ও ষাঁড় বাড়ানোর পাশাপাশি খামারের পরিসরও বাড়িয়েছেন তিনি।

২১ মার্চ বেলা তিনটায় উপজেলার বটতলী রুস্তমহাটের এক কিলোমিটার পশ্চিমে সড়কের ধারে তালুকদার ডেইরি ফার্মে গিয়ে দেখা যায়, দুজন শ্রমিক নিয়ে খামারের গরুর দেখভাল করছেন আইয়ুব। খামারে দুটি পৃথক শেড আছে। একটিতে পশু রাখা হয়, অন্যটি শ্রমিকদের থাকার ঘর। খামারে যথেষ্ট পরিমাণ পশুখাদ্য এবং ওষুধও রাখা হয়।

আইয়ুব আলীর সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, খামারে ফ্রিজিয়ান জাতের উন্নতমানের গাভি আছে। সেখান থেকে প্রাণিসম্পদ বিভাগের সহায়তা নিয়ে কৃত্রিম প্রজনন ঘটিয়ে পশুর সংখ্যা বাড়াচ্ছেন তিনি। তবে একটু বড় হলে ষাঁড় বিক্রি করে দেন তিনি। এ ছাড়া প্রতিদিন প্রতি লিটার ৪০ টাকা করে প্রচুর দুধও বিক্রি হয়। আইয়ুব আলী বলেন, ‘খামার করেই আমি ঘুরে দাঁড়িয়েছি।

এখানকার আয় দিয়ে চলছে অন্যান্য লাভজনক ব্যবসাও।’ আইয়ুব মনে করেন, ‘একটি ঘরে যদি দুটি গাভি পালন করে কেউ, তাহলে ওই ঘরের অভাব দূর হবে।’ আইয়ুব আলীর পিতা মোহাম্মদ ছবুর বলেন, ‘আমার পাঁচ ছেলে ও দুই মেয়ের মধ্যে আইয়ুব একটু আলাদা। সে দেখিয়েছে পরিশ্রম করলে ও লক্ষ্য ঠিক থাকলে সাফল্য আসবেই।

আনোয়ারা উপজেলা প্রাণিসম্পদ কার্যালয়ের ভেটেরিনারি সার্জন রূমন তালুকদার বলেন, ‘আইয়ুব আলী একজন সফল খামারি। আমরা তাঁকে প্রয়োজনীয় টিকা, কৃত্রিম প্রজননসুবিধা থেকে শুরু করে প্রযুক্তিগত সব ধরনের সুযোগ-সুবিধা দিয়ে আসছি। জানতে চাইলে উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা দেলোয়ার হোসেন বলেন, আইয়ুব আলীর সাফল্য দেখে বহু বেকার যুবক আশার আলো দেখছেন। তিনি অন্যদের জন্য দৃষ্টান্ত হয়ে আছেন।

Load More Related Articles
Load More By admin
Load More In উদ্যোক্তা

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Check Also

ফজরের নামাজের সময় মৃত্যুর আকুতি পূরণ হলো সেই যুবকের‍

এরপর থেকে নিজের মৃত্যু নিয়ে তাসনিমের স্ট্যাটাসটি হু হু করে ছড়িয়ে পড়ে সোশ্যাল মিডিয়ায়। অনেক…