Home বাংলাদেশ করোনায় জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ৪৮ নারীর গোসলসহ ১১৮ জনকে দাফনের ব্যাবস্থা করেছেন রোজিনা

করোনায় জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ৪৮ নারীর গোসলসহ ১১৮ জনকে দাফনের ব্যাবস্থা করেছেন রোজিনা

2 second read
0
0
232

করো’নার মতো মহামা’রি ভাই’রাসের সময়ে অনেক জনপ্রতিনিধি যখন চুপটি করে বাসায় বসে ‘ইয়া নফসি-ইয়া নফসি’ করেছেন তখন জীবনের ঝুঁ’কি নিয়ে কাজ করেছেন রোজিনা আক্তার। এ পর্যন্ত ৪৮ জন নারীকে গোসল করিয়েছেন তিনি। আম্পানের মতো ঘূর্ণিঝড়ের রাতে কবর খোড়াতে হয়েছে এ নারীকে।

পদ বিবেচনায় তৃণমূল পর্যায়ের একজন জনপ্রতিনিধি রোজিনা আক্তার। নারায়ণগঞ্জ সদর উপজে’লার এনায়েতনগর ইউনিয়নের ৭,৮ ও ৯ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য রোজিনা। এ পর্যন্ত দুই দুইবার নির্বাচিত হয়েছেন। এলাকার মানুষ কেউ ডাকেন রোজিনা মেম্বার বলে কেউবা বলেন মেম্বারনি। স্থানীয়রা জানান, এতদিন তার পরিচিতি শুধু ওয়ার্ড আর ইউনিয়নেই সীমাবদ্ধ ছিল।

করো’নাকালে তা ছাড়িয়ে যায় অনেক দূর পর্যন্ত। শুরুতে কেউ মা’রা গেলে লা’শ গোসল-দাফন তো দূরের কথা পরিবারের সদস্যরাও ছুঁয়ে দেখতো না। চিরচেনা মানুষ করো’নায় আ’ক্রান্ত না হয়েও মা’রা গেলে ঘণ্টার পর ঘণ্টা ম’রদেহ পরে থাকতো। সেই বিভীষিকাময় সময়ে কিছু মানুষ সাহস করে এগিয়ে আসেন। রোজিনা আক্তার তাদের মধ্যে অন্যতম। বলা চলে, সারা বাংলাদেশে তিনিই একমাত্র নারী জনপ্রতিনিধি যে এ পর্যন্ত ৪৮ জন নারীকে গোসল করিয়েছেন।

জানামতে, এ রেকর্ড বিশ্বেও বিরল। শুরুতেই তিনি ঘোষণা দেন কোন মা বোন যদি মা’রা যায় তাদের গোসলের দায়িত্ব নেবেন তিনি। এরপর শুরু হয় কর্মকা’ণ্ড। একের পর এক মৃ’ত নারীকে গোসল করাতে শুরু করেন তিনি। রোজিনা আক্তার জানান, প্রতিটি গোসলে নতুন নতুন অ’ভিজ্ঞতা অর্জন হয় তার। ঢাকায় বিশালাকার বাড়ির এক ফ্ল্যাটের একজন নারী যখন করো’নায় আ’ক্রান্ত হয়ে মা’রা গেলেন তখন আশপাশের কেউ এগিয়ে আসেননি।

ওই বাড়ির নীচে গোসল করাতে গেলেন তখনও এলো বাঁ’ধা। শেষ দিকে ওই নারীর ফ্ল্যাটের ওয়াশরুমে গোসল করাতে হয়েছে। আম্পান ঝড়ের সময়ে রাত আড়াইটা পর্যন্ত ফতুল্লায় এক নারীকে গোসলে ব্যস্ত ছিলেন। আম্পানের আরেক রাতে মাসদাইর কবরস্থানে সারা রাত ছিলেন।রোজিনা আক্তার আরেক আ’লোচিত করো’না যোদ্ধা মাকসুদুল আলম খন্দকার খোরশেদের টিম এ পর্যন্ত ৪৮ নারীকে গোসলসহ ১১৮ জনকে দাফন করেছে।

রোজিনা আক্তার জানান, তার টিমের সদস্যরা কবরের মাটি খোঁড়ার কাজটি স্বেচ্ছাশ্রমে করেন। এজন্য কোনো পারিশ্রমিক নেন না তারা। ঝুঁ’কি জেনেও কেন এমন কাজে এগিয়ে এলেন, এমন প্রশ্নের জবাবে রোজিনা আক্তার জানান, স্বামী মা’রা গেছে। সন্তানরা বিয়ে করে সংসারী হয়েছে। পরিবারে আমা’র দায়িত্ব যতখানি আমি মনে করি একজন জনপ্রতিনিধি হিসেবে মানুষের প্রতি আরও বেশি দরদ থাকা দরকার। এই বোধোদয় থেকেই করো’না ভ’য়কে উপেক্ষা করে মানবসেবায় এগিয়ে এসেছি।

কোনো আক্ষেপ আছে কি- না এমন প্রশ্নের জবাবে রোজিনা আক্তার বলেন, মানুষকে ভালোবেসে মহান আল্লাহকে খুশি করতে কাজ করেছি। তাই কোনো কিছু নিয়ে আক্ষেপ নেই। তবে যখন দেখি কেউ কাজ না করেও কাজের স্বীকৃতি পায়, সম্মাননা পায় তখন কিছুটা রাগ লাগে। তার মতে পুরুষতান্ত্রিক সমাজে নারী বলে তাকে অবহেলার চোখে দেখে কেউ কেউ। তবে এসবে ভ্রুক্ষেপ নেই তার। তিনি আরও বলেন, যতদিন বেঁচে আছি ততদিন মানবসেবা করে যাবো

Load More Related Articles
Load More By admin
Load More In বাংলাদেশ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Check Also

টি স্পোর্টস লাইভ .! বাংলাদেশ বনাম ওয়েস্ট ইন্ডিজ ! লাইভ খেলা দেখুন

আসসালামু আলাইকুম সবাই কেমন আছেন আশা করি সবাই ভালো আছেন। আমরা অনেকেই আছি যারা মোবাইলে সরাসর…